কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

/কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ 2017-05-04T10:02:22+00:00

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্দেশ্য:

কক্সবাজার ও উহার সন্নিহিত এলাকা সমূহের সমন্বয়ে গঠিত একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী প্রতিষ্ঠা এবং এতদাঞ্চলকে সুপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজনীয়তা:

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের যথাযথ ব্যবহারের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে বিধায় উক্তরূপ পর্যটন অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য পরিকল্পিত উন্নয়ন আবশ্যক। যেহেতু এতদাঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটনশিল্প বিকাশের জন্য অপরিহার্য। এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমির সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যেহেতু অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করাসহ অননুমোদিতভাবে নির্মিত ইমারত ও স্থাপনা অপসারণ করা একান্তভাবে জরুরী। যেহেতু শিল্প বিকাশে পর্যটন অঞ্চলের অবকাঠামো ও স্থাপনাসমূহ দৃষ্টিনন্দিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। বর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়ন এবং আনুষঙ্গিক কার্যাদি সম্পন্ন করিবার লক্ষ্যে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন ও অপরিহার্য।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ:

সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করবে।
কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ;

এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে। যথা

ক) সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন চেয়ারম্যান;
খ) সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত ৪ (চার) জন সদস্য, যথা:

১) সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ);
২) সদস্য (প্রকৌশল);
৩) সদস্য (পরিকল্পনা); এবং
৪) সদস্য (আইন ও বাস্তবায়ন);

গ) জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার;
ঘ) পুলিশ সুপার, কক্সবাজার;
ঙ) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন উপ-সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা;
চ) ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন উপ-সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা;
ছ) পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক মনোনীত অন্যূন উপ-সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা;
জ) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি;
ঝ) মেয়র, কক্সবাজার পৌরসভা;
ঞ) বিভাগীয় প্রধান, নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়;১২
ট) নির্বাহী প্রকৌশলী, গণপূর্ত বিভাগ, কক্সবাজার;
ঠ) স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি কর্তৃক মনোনীত কক্সবাজার জেলায় কর্মরত স্থানীয় স্থাপত্য বিভাগের একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি;
ড) কক্সবাজার শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি অথবা তৎকর্তৃক মনোনীত সমিতির একজন প্রতিনিধি; এবং
ঢ) কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকায় বসবাসরত সরকার কর্তৃক মনোনীত ৩ (তিন) জন বিশিষ্ট নাগরিক, তন্মধ্যে অন্যূন একজন মহিলা হইবেন।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যাবলী:

এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা
১) ভূমির যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করিয়া মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন;

২) মহাপরিকল্পনা (Master Plan) প্রণয়নের নিমিত্তে ভূমি জরিপ ও সমীক্ষা, গবেষণা পরিচালনা এবং তদসংশ্লিষ্ট সকল প্রকার তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ;

৩) ভূমির উপর যে কোন প্রকৃতির অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন অঞ্চল ও নগর পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যাবলী গ্রহণ;

৪) পর্যটন শিল্পের বিকাশসহ কর্তৃপক্ষের আওতাধীন এলাকার গৃহায়ন ও আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পর্যটনকেন্দ্রিক আবাসিক, বাণিজ্যিক, বিনোদন, শিল্প বা এতদসম্পর্কিত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পৃথক পৃথক এলাকার অবস্থান নির্ধারণ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও উহার কার্যকর বাস্তবায়ন;

৫) দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কক্সবাজার জেলায় নিরাপদ অবস্থান ও যাতায়াত সহজ করিবার লক্ষ্যে আধুনিক পর্যটন নগরী ও অঞ্চলের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সড়ক, মহাসড়ক, নৌপথ, রেলপথ ও সমুদ্রপথ নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহিত আলোচনাক্রমে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন;

৬) সমুদ্র সৈকতে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে বিধি বহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ বা অপসারণ;

৭) অপরিকল্পিত, অপ্রশস্ত ও ঘিঞ্জি বসতি অপসারণক্রমে নূতন আবাসন প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন এবং উক্ত এলাকার বাসিন্দাগণের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;

৮) নিম্নবিত্ত, বস্তিবাসী এবং গৃহহীনদের আবাসন সমস্যার অগ্রাধিকার বিবেচনায় রাখিয়া উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও উহার বাস্তবায়ন;

৯) উন্নয়ন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রহিয়াছে এইরূপ কোন এলাকার জন্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি এবং উক্ত এলাকার ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন বা কোন ইমারত বা স্থাপনার পরিবর্তনের উপর অনধিক এক বৎসর পর্যন্ত বিধি-নিষেধ আরোপ;

১০) আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন অঞ্চল ও নগর পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা তৈরী এবং উহার ধারাবাহিক সংরক্ষণ;

১১) পর্যাপ্ত সংখ্যক বনায়ন ও সবুজ বেষ্টনী তৈরি;

১২) কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ বা বাস্তবায়নের জন্য কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যয়ে দেশি-বিদেশি বা অন কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে পরামর্শ বা সহযোগিতা গ্রহণ ওবাস্তবায়ন;

১৩) পর্যটন শিল্প বিকাশের উদ্দেশ্যে দেশি বা বিদেশি ব্যক্তি, সরকারি বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন;

১৪) কোন উন্নয়ন প্রকল্প অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন তত্ত্বাবধান;

১৫) সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে ব্যাংক বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যে কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা বিদেশি সংস্থা হইতে ঋণ গ্রহণ;

১৬) পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের সহিত সমন্বয় সাধন;

১৭) আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন অঞ্চল ও নগর সংক্রান্ত সেমিনার সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপে আয়োজন;

১৮) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তি সম্পাদন;

১৯) সমুদ্র সৈকত বা তৎসংলগ্ন পর্যটন অঞ্চলে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করিবার লক্ষ্যে ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, বিনোদন ও সেবামূলক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং নিজস্ব ওয়েবসাইটসহ সংশ্লি অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; এবং

২০) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার কর্তৃক, সময় সময়, কর্তৃপক্ষের উপর অর্পিত অন্য যে কো দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পাদন।