কক্সবাজারের ইতিহাস

/কক্সবাজারের ইতিহাস
কক্সবাজারের ইতিহাস 2017-05-04T07:43:34+00:00

ইতিহাসে আছে সাগরের পানি থেকে লবণ উৎপাদন করা। ১৭৫৭ থেকে ১৭৬৫-তে ওয়ারেন হেষ্টিংস ইংরেজদের ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর সুপারেন্টেন্ডেন্ট থাকাকালে লবণ চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিনিয়োগ শুরু হয় লবণ সংগ্রহে। গড়ে তোলে লবণ ব্যবসার বণিক সমিতি। ওয়ারেন হেষ্টিংস বেঙ্গলের গভর্ণর হয়ে যাওয়ার পর হিরাম কক্স নামক ইংরেজ সুপারেন্টেন্ডেন্ট এখানে একটি মৎস্য বাজারের সৃষ্টি করেন। আরাকানি রিফুজি ও স্থানীয় রাখাইনদের দ্বন্দ্বের সমাধানে বিশাল ভূমিকা পালন করেন তিনি। তাঁর অকাল মৃত্যুর পর তার নামানুসারে হয় কক্স মার্কেট। যা এখন কক্সবাজার।

তারও আগে ১৬৬৬ সালে মোঘল রাজকুমার শাহ সুজা চিটাগাং থেকে আরাকান যাবার পথে এক হাজার পালকী বা ঢুলি নিয়ে শিবির স্থাপন করেছিলেন চকরিয়াতে। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর সাগর পাহা এর সৌন্দর্য তাঁকে মুগ্ধ করে। ১০০০ পালকীর অবতরণের জন্য তার নাম হয় ডুলাহাজরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সেখানে বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক করে ইতিহাসকে জীবন্ত করেছেন। যদিও যে হিরাম কক্সের নামের কক্সবাজার, সেই কক্সের কোন ভাষ্কর্য বা স্মৃতি জনসমুক্ষে নেই যা দেখেই কক্সবাজারের ইতিহাস মানসপটে ভেসে উঠতো। এরপর পর্তুগীজ ও ব্রিটিশ শাসনের মধ্যে ১৮৫৪ সালে কক্সবাজার শহর স্থাপিত হয়। ১৮৫৭ সালের ভারতের সিপাহী বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রিটিশরা তাদের সেনাঘাটির শহর কক্সবাজারকে ১৮৭৯ সালে মহকুমা ঘোষণা করেন।

১৯৪৭ এ ভারত ভাগের পর মহকুমা হিসেবে স্বীকৃত কক্সবাজারের প্রথম মিউনিসিপ্যাল চেয়ারম্যান হন ক্যাপ্টেন এডভোকেট ফজলুল করিম। তিনিই বীচ ধরে ঝাউবন লাগিয়ে এটাকে পর্যটন স্পট হিসেবে তৈরী করেন। তিনি মূলত টি-সুনামী থেকে শহরকে রক্ষা করতে ঝাউবন করেন। তিনি নিজেদের পারিবারিক সম্পত্তি দান করে পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হল করেন। মূলত বোম্বে ও করাচী সী-বীচের মত পর্যটকরা যেন সী-বীচ উপভোগ করতে পারে সেই চেষ্টা করেন। অনেক কর্ম তিনি করেছিলেন। তাঁর স্মৃতি রক্ষিত হওয়াও এ সিটির অলঙ্কার হবে। প্রমাণ হবে আমরা কারো অবদান ভুলিনি।

পাকিস্তান নেভির একটি নৌঘাটিও ছিল কক্সবাজার। বঙ্গোপসাগরের ঠিক ওপাড়ে বিশাখাপট্টমের ভারতীয় ইষ্টার্ণ নৌঘাটিকে মোকাবেলা করতে এখানে তৈরী হয় একটি এয়ার ষ্ট্রিপ। এর জন্যই কক্সবাজারে ১৯৭১ সালে পাক আর্মিদের ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল ও শেষদিকে ভারতীয় বিমানের ব্যাপক হামলা হয়েছিল পাক হানাদার আর্মি থেকে কক্সবাজার মুক্ত করতে। সেসব স্মৃতি রক্ষার কাজগুলোও পর্যটককে এ শহরের ইতিহাসকে স্মরণ করিয়ে দিবে। যেমন বিশাখাপট্টমের সী-বীচে একটি ডুবো জাহাজকে তটে তুলে যাদুঘর বানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, যা ছিল পাকিস্তানী ডুবোজাহাজ। ১৯৭১ এর যুদ্ধে তা ভারতের হাতে ধরা পড়ে। এখানের ইতিহাসের ডিসপ্লে দরকার।

স্বাধীনতার পর কলাতলী আবাসিক এলাকাটি গড়ে তোলা হয়। এখানে সেটা কেন আবাসিক এলাকা তা বোধগম্য না। ১৯৮৪ সালে কক্সবাজার সাব-ডিভিশন থেকে জেলায় রূপ নেয়। ২০০৭ সালে বিশ্বের সাথে যোগাযোগের সাব-মেরিন ক্যাবল সাগর থেকে তুলে আনা হয়। শহরটি একটি ট্রপিক্যাল আবহাওয়া অঞ্চলে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই এখানকার জন্য বিশাল সব পরিকল্পনা হয়, তাঁর অবদান স্মরণীয় করে রাখার মত।