পরিকল্পিত কক্সবাজার স্বপ্নের কক্সবাজার

/পরিকল্পিত কক্সবাজার স্বপ্নের কক্সবাজার
পরিকল্পিত কক্সবাজার স্বপ্নের কক্সবাজার 2017-05-04T09:13:10+00:00

পরিকল্পিত কক্সবাজার স্বপ্নের কক্সবাজার

সরোয়ার উদ্দিন আহমেদ

প্রধান নগরপরিকল্পনাবিদ (ভারপ্রাপ্ত)

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। জানা যায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ, ভাঙ্গনবিহীন ও বালি সমৃদ্ধ এই সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর কোথাও আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা গর্বিত ও অহঙ্কারী সৃষ্টিকর্তার নিকট কৃতজ্ঞ। এই অপার সম্ভাবনাময় সম্পদকে ব্যবহার করে আমরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী হতে পারি তেমনি আমরা গর্বভরে পৃথিবীর সকল শ্রেণীর পর্যটককে আমন্ত্রন জানাতে পারি। কোন মেহমানকে বাড়ীতে আমন্ত্রন জানাতে কিছুটা হলেও প্রস্তুতি নিতে হয়, যেমন ঘর-বাড়ী পরিচ্ছন্ন করা সাধ্যমত খাবার আয়োজন করা ইত্যাদি। ঠিক তেমনিভাবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অতিথিদের আমন্ত্রন জানাতে হলে আমাদের অনেক কিছুই করণীয় রয়েছে।

কক্সবাজার শহরেই রয়েছে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। শহরের প্রবেশপথ কলাতলী হতে লাবনী বিচ এবং কলাতলী হতে হিমছড়ি হয়ে ইনানী পর্যটন কেন্দ্র। বর্তমানে ইনানী হয়ে সুদূর টেকনাফ পর্যন্ত নির্মিত মেরিন ড্রাইভ হয়েছে। এই মেরিন ড্রাইভ দিয়ে টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের লাল কাঁকরার ঝাঁক উপভোগ করা যায়। পায়ের শব্দে কাঁকরাগুলি যখন মাটির নীচে দৌড়ে আশ্রয় নিয়ে থাকে সে দৃশ্য অনেকেরই দেখা হয় নি। হিমছড়ির ঝরনায় এখন পানি দেখা যায় না। ইনানী বীচে ভাটার সময় কালো পাথরের বীচে বেড়ানোর আনন্দই অন্যরকম।

কক্সবাজার বলতে শুধু কক্সবাজার শহরকে ভাবলেই চলবে না। কক্সবাজারের আশপাশ ঘিরে রয়েছে সৌন্দর্যমন্ডিত দ্বীপের অবাধ বিচরণ। যেমন সেন্টমার্টিন দ্বীপ, ছেঁড়া দ্বীপ, শাহপরির দ্বীপ, মহেশখালী দ্বীপ, কুতুবদিয়া দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপসহ অনেক অজানা দ্বীপ। সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাবার জন্য সকলেই স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে এসে অনেকেই হতাশা ব্যক্ত করে থাকেন। বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপের প্রকৃতির খেলা নিয়ন্ত্রনের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। সেখানে নেই কোন পর্যটকদের জন্য সুযোগসুবিধা। পর্যটকরা অতি কষ্টে জাহাজে করে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ঘাটে পৌছাতে পারলেও জাহাজ থেকে নামা হতে শুরু করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে যার পর নাই হিমশিম খেতে হয়। সেখানে নেই কোন সুষ্ঠ অবকাঠামো, নেই যানবাহন, পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তামূলক আবাসন ব্যবস্থা, বিদ্যুত ও খাবার পানির ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে একটা অব্যবস্থাপনা মিশে আছে এই দ্বীপ। একই দুরবস্থা মহেশখালী ও কুতুবদিয়া দ্বীপেও। যেতে নেই কোন সুষ্ঠ ও নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা।

আমরা অনেকেই পৃথিবীর বিভিন্নদেশ ভ্রমন করেছি, এমন সুন্দর দেশ বাংলাদেশের মত প্রকৃতির ছোয়ায় তৈরী দেশ পৃথিবীর কোথাও নেই। আমরা চাইলে পৃথিবীর সকল পর্যটককে এদেশে আমন্ত্রন জানাতে পারি আন্তরিকতার সাথে, গর্বের সাথে। বলতে পারি আসো, আমার দেশে এবং দেখে যাও প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য তোমাকে হাতছানি গিয়ে ডাকছে। পৃৃথিবীর কোথাও পাবে না এমন আমন্ত্রন অন্য কেউ জানাতে পারে না। পৃথিবীতে অনেক পর্যটক আছে যারা এখনো আমাদের এই কক্সবাজার এর নাম শুনেছে কিনা জানিনা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আমরা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকতকে অতিথিদের জন্য উপযোগী করে তুলতে পারি নাই। এ দায় আমাদের সকলের।

এতকিছুর পরও আমাদের এই অপার সম্ভাবনাময় সম্পদকে ব্যবহার করে পৃথিবীর কাছে এক নামে পরিচিত হবার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের এই অগ্রযাত্রা। ২০১৬ সালের ১৩ মার্চ প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে সরকার কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে। দেশের মাত্র চারটি বিভাগে ইতিপূর্বে প্রতিষ্ঠিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আদলে একমাত্র জেলা শহর পর্যটন নগরী কক্সবাজারে এই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার একটা বড় উদ্দেশ্য রয়েছে। হাটি হাটি পা পা করে আজ আমাদের কাগজে কলমে এক বছর হলেও মাত্র পাচঁজন কর্মকর্তা নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়েছে মাত্র তিন মাস। প্রতিষ্ঠার চেয়ারম্যান কক্সবাজারের সন্তান সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ফোরকান আহমদ এর নেতৃত্বে এই কর্তৃপক্ষকে কার্যকর করার নানামুখী কর্মকান্ড চলছে। এই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কেন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে? বা এর কাজ কি? জনসাধারন এই প্রতিষ্ঠানের দ্বারা কিভাবে উপকৃত হবে ইত্যাদি প্রশ্ন জর্জরিত সময় অতিক্রম করছে এই প্রতিষ্ঠান।

এই সবকিছুর উত্তর দেবার জন্য আমাদের যাত্রা শুরু। কক্সবাজারকে আর্ন্তজাতিক মান সম্পন্ন পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে হবে আমাদের। দায়িত্ব নিতে হবে সকলকে। তার জন্য সর্বাগ্রে দরকার কক্সবাজার এর জন্য যুগোপযোগী একটি মাষ্টার প্ল্যান প্রনয়ণ করা। যদিও কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পূর্বেই নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর কক্সবাজারের জন্য সীমিত আকারে একটি মাষ্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেছে, যেটাকে বর্তমানে অনুসরণ করেই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে এবং পর্যটন নগরীর গড়ার স্বার্র্থে এই মাষ্টার প্ল্যান এর বিস্তারিত আপডেট করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। সাথে সাথে শহরে ভবন নির্মাণ ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শহরে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য বাস্তবতার নিরিখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা অতীব জরুরী।

কক্সবাজার বলতে আমরা অনেকেই শুধুমাত্র সমুদ্র সৈকত এলাকাকে বুঝি। কিন্ত কক্সবাজার সৈকত এলাকার বাইরে বিস্তৃত শহরটি বর্তমানে বসবাসের প্রায় অযোগ্য। এখানে নেই চলাচলের জন্য উপযুক্ত রাস্তা, শহরের পানি সরে যাবার জন্য নেই পর্যাপ্ত নালা বা ড্রেইন, নেই যানবাহন চলাচলের শুষ্ঠু কোন নিয়মকানুন। পয়ঃ নিষ্কাশন ও ময়লা অপসারনের পর্যাপ্ত ও আধুনিক ব্যবস্থাও নেই এই শহরে। বাসযোগ্য ও পর্যটন নগরী গড়ে তোলার পূর্ব শর্ত হিসাবে এই সমস্ত নিত্য প্রয়োজনীয় কার্যাদি অতীব জরুরী ভিত্তিতে সমাধান করা অতীব জরুরী।

মাষ্টার প্ল্যান প্রনয়ণের জন্য এই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহন করছে। সাথে সাথে যুগোপযোগী ইমারত নির্মান বিধিমালা প্রনয়ণ করাটাও প্রয়োজন। শুধুমাত্র মাষ্টার প্ল্যান এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রনয়ণ করলেই হবে না। এর যথার্থ বাস্তবায়ন আমাদের করতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকার জনসাধারন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এমন কি বিভিন্ন পেশাজীবিদের সাথে বিভিন্ন সময় আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় করেছি এবং করছি। আমরা মনে করি শহরে যারা বসবাস করেন তাদের অংশগ্রহনই হতে পারে এই শহরের ভবিষ্যত উন্নয়ন। এর জন্য প্রয়োজন সকল ধরনের প্রচার ও মোটিভেশন। সকলকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে কক্সবাজরের গুরুত্ব সম্পর্কে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের যে কত বড় নিয়ামত দিয়েছেন, যেটাকে ব্যবহার করে আমরা পৃথিবীর বুকে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে থাকবো। সমৃদ্ধ হবে আমাদের পর্যটন শিল্প, উন্নত হবে আমাদের অর্থনীতি, উপকৃত হবে দেশ ও সমাজ তথা আমাদের সকলের।

আমাদের অধিকাংশ জনগণই বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। সেখানে বাপ-দাদার ভিটাতে ইচ্ছেমত ঘর-বাড়ী তৈরী করতে পারতাম, করেছিও। কিন্ত শহরে বসবাস করলে কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চলার প্রয়োজন রয়েছে। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই বিভিন্ন ধরনের নিয়ম নীতি মেনে চলার বিধান রয়েছে। আমরাও তার বাইরে নই। তবে আমাদের নীতি সমূহ হবে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা, অর্থনীতি, সংস্কৃতির আলোকে। সেজন্য প্রয়োজন আমাদের মেধার সর্বোত্তম ব্যবহার। বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক পরিকল্পনাবিদ রয়েছেন, যারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের পেশাদারীত্বের চমকপ্রদ উদাহরণ রেখে যাচ্ছেন। আমরা তাদেরকে যথাযথ কাজে লাগাতে চাই। কক্সবাজারর জন্য সুন্দর বাস্তবসম্মত এবং আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে আধুনিক মাষ্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা আমাদের এখন সময়ের দাবি।

মাষ্টার প্ল্যান এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সবার সহযোগিতা, এক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা রাখলে হবে না। সরকারের ভূমিকার পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ,প্রকৌশলী, ডাক্তার, শিক্ষক, ছাত্র, ইমাম, রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক, খেলোয়ার ইত্যাদি সকল পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতার প্রয়োজন। তাদের সকলকে বুঝতে হবে এই শহর আমার এবং মাষ্টার প্ল্যান সহ অন্যান্য বিধিমালা আমার স্বার্থেই করা হয়েছে এবং এর ফল আমিই ভোগ করব। সরকারের উদ্যোগ তখনই সফলতা বয়ে আনবে।

কোন শহরকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করতে হলে সবার আগে যেটি প্রয়োজন তাহলো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। টেকসই যোগাযোগ না হলে সে শহর বসবাসের উপযোগী থাকে না। শহরের প্রাইমারী রাস্তা, সেকেন্ডারী রাস্তা এবং টার্সিয়ারী রাস্তা মাষ্টার প্ল্যানে উল্লেখ থাকে। যেগুলো বাস্তবায়ন করা শহরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের। তবে শাখা রাস্তা বা একটা বাড়ীর প্রবেশ পথ সরকার বা কর্তৃপক্ষের সাথে সাথে ভবনের মালিকের দায়িত্বও কোন অংশে কম নয়। ভবন নির্মাণের সময় ২০’-০” এর কম প্রশস্ত রাস্তার কেন্দ্র হতে ৪.৫ মিটার বা ১৫’-০” এবং ২০’-০” এর অধিক প্রশস্থ রাস্তার পাশের্^ ৫’-০” দূরে ভবন নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক। এতে করে শহরের কোন গলিপথও ২০’-০” এর কম প্রশস্থ হবার সম্ভাবনা নেই। যেখানে অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত এম্বুুলেন্স এবং অগ্নিনির্বাপনে ফায়ার সার্ভিস প্রবেশের সুবিধা দিতে পারবে। যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধারকারীদের অনায়াসে প্রবেশের দ্বার উন্মুক্ত হবে। এ সকল কিছুর গুরুত্ব আমাদের সকলের ভাবতে হবে।

কক্সবাজার যদিও সমুদ্র ও পাহাড় বেষ্টিত নৈসর্গিক এক অপরূপ সৌন্দর্যের স্থান। এখানে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় শহরের মূল এলাকা। এটা অনেকে বিশ^াস হয়তো করতে পারবেন না। আশ্চর্য হলেও সত্যি যে শহরের পানি বের হওয়ার নালা সমূহের উপর জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে আমরা ভবন নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশনে বাধার সৃষ্টি করেছি। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আর্বজনা না ফেলে পাশের্^ ড্রেইনে পলিথিনের ব্যাগ সহ ফেলে জলাবদ্ধতার সুযোগ করে দিয়েছি যার কুফল নগরবাসী ভোগ করছে। এসব কিছু হতে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।

এ শহরবাসীর জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, যানজটহীন পরিচ্ছন্ন শহর, জলাবদ্ধতার অবসান, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সুস্বাস্থের ব্যবস্থা, মান সম্মত আবাসন ব্যবস্থা, বিপণী কেন্দ্র, কনভেনশন সেন্টার, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত এলাকা শিশু-কিশোরদের জন্য পার্ক ইত্যাদি কক্সবাজারে স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি।

আমাদের সচেতন নাগরিকদের সাথে তাল মিলিয়ে অঙ্গীকার করতে হবে এ শহর আমার আপনার সকলের। আমরা এ শহরকে অন্তর দিয়ে ভালবাসি। ভালবাসার শহরকে অপরূপে সাজাতে যা যা করণীয সব কিছুই আমরা করব এবং সকলকে করতে উৎসাহ যোগাবো। কোন অনিয়ম করবো না আমার ভালবাসার সাথে। পৃথিবীর সকল মানুষ আমাদের অতিথি হয়ে আসবে। আমরা তাদের আতিথেয়তা দিব অন্তর থেকে। আজ আমরা বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নয়নের উদাহরন দিয়ে থাকি। উন্নয়ন দেখতে বিভিন্ন দেশে সফর করে থাকি। একদিন আমরাই উদাহরণ হতে চাই। আমাদের দেশ সফর করতে আসবে পৃথিবীর সকল দেশের মানুষ এই স্বপ্ন আমরা কি দেখতে পারি না?