কউক নিয়ে কিছু ভাবনা

/কউক নিয়ে কিছু ভাবনা
কউক নিয়ে কিছু ভাবনা 2017-05-04T08:58:16+00:00

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিয়ে কিছু ভাবনা

লে: কর্ণেল মোহাম্মদ আনোয়ার উল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার্স

সদস্য (প্রকৌশল), কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার।

সারি সারি ঝাউবন, বালুর নরম বিছানা, সামনে বিশাল সমুদ্র। কক্সবাজার গেলে সকালে-বিকেলে সমুদ্রতীরে বেড়াতে মন চাইবে। নীল জলরাশি আর শোঁ শোঁ গর্জনের মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকতের নাম কক্সবাজার। অপরূপ সুন্দর বিশ্বের বৃহত্তম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। যারা একাকী বা স্ব-পরিবারে বেড়াতে চান তাদের জন্যই হাতছানি দিচ্ছে পর্যটন কেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থান কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ির ঝর্ণা, ইনানী সমুদ্র সৈকত, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়া বাতিঘর (কুতুবদিয়া), সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক (ডুলা হাজারা), মাথিনের কূপ (টেকনাফ), মৈনাক পর্বত ও আদিনাথ মন্দির (মহেশখালী দ্বীপ), কুতুব আউলিয়ার মাজার (কুতুবদিয়া), রামকোট হিন্দু মন্দির, রামকোট বৌদ্ধ কেয়াং, কানারাজার সুড়ঙ্গ, বীর কমলার দিঘী (টেকনাফ),অগ্বমেধা বৌদ্ধ কেয়াং, থোয়াইংগা চৌধুরীর ক্যাং (রামু), ন্যাথং পাহাড়ে অবস্থিত সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ মূর্তি (টেকনাফ) এবং ঝিলংজাতে অবস্থিত সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন। মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপরী, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারকে করেছে আরো আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে মাতা মুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়া ও নাফ নদী। পর্যটন, বনজসম্পদ, মৎস্য, শুটকিমাছ, শামুক, ঝিনুক ও সিলিকাসমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজারের অবস্থান ভ্রমনবিলাসী পর্যটকদের কাছে সবার উপরে।

কক্সবাজার ও উহার সন্নিহিত এলাকা সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী প্রতিষ্ঠাকল্পে উক্ত অঞ্চলে সু-পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়। পাহাড়, সাগর, দ্বীপ, নদী ও সমতল ভূমির এক অনন্য মিলন মোহনা এ কক্সবাজার। এই অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখা পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য অপরিহার্য। পর্যটন অঞ্চলের অবকাঠামো ও দৃষ্টি নন্দন স্থাপনা এবং ভূমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। ভূমির যুক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহা-পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ চলমান।

কক্সবাজারের ঐত্যিবাহী লালদিঘী, গোলদিঘী, বাজারঘাটা পুকুর এবং ৬নং নৌ ঘাটকে সংস্কারসহ সৌন্দর্য বর্ধনের প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। কক্সবাজার শহরের আবাসিক সমস্যা সমাধানের জন্য আবাসন প্রকল্প নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। হলিডে মোড় হতে লারপাড়া (বাসষ্ট্যান্ড) এবং হলিডে মোড় হতে বিমান বন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংস্কার সম্প্রসারণ এবং দৃষ্টি নন্দন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১.২১ একর জমিতে কউকের নিজস্ব ১০ (দশ) তলা অফিস ভবনের ডিপিপি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কক্সবাজার শহর এলাকার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) নির্মাণ করার পরিকল্পনা কউক গ্রহণ করতে যাচ্ছে। তাছাড়াও সিসিটিএফ ফান্ড থেকে কক্সবাজারের জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রকল্প ডিপিপি আকারে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ইতিমধ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ টেকনাফ থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে কউকের কার্যক্রম সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা আয়োজন করে চলেছে । কক্সবাজারের অনুমোদন বিহীন ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগের সময় ভবনের অনুমোদন আছে কিনা তা যাচাই করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, কক্সবাজারকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসরত এলাকা সমূহ পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা পরিষদকে নিয়ে একসাথে উচ্ছেদ অভিযানসহ অবৈধ বসবাসকারীদের সরকারী খাস জায়গা দখলে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

আমাদের কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জন্য একটি কার্যকরী ও আকর্ষণীয় ওয়েব সাইট তৈরির কাজ চলমান। আমরা ২৩ই জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ইমারত নির্মাণ এবং ভূমি ব্যবহার সেবা সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। কক্সবাজার ডিসি অফিস থেকে প্রাপ্ত ২১৭টি ইমারত নির্মাণ আবেদন ইতিমধ্যে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। নতুন জমাকৃত ১০৫টি ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৪৭টি ফাইলের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যা একটি চলমান প্রক্রিয়া। কক্সবাজার অঞ্চলের বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিভিন্ন প্রকল্প যেমন- সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, নাফ ট্যুরিজম পার্ক, মাতারবাড়ী ১২০০ মে: বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কক্সবাজার আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে উন্নীতকরণ আধুনিকায়ন, খুরুস্কুল বিশেষ আশ্রায়ন প্রকল্প, মেরিন ড্রাইভ সড়ক প্রকল্প, বাঁকখালি নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, ডুলাহাজারা- কক্সবাজার রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার জেলার তথা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। আশা করি উন্নয়নের গণতন্ত্র এবং পরিকল্পিত পর্যটন নগরী গড়তে আমরা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাব (ইনশাল্লাহ)।

সময়ের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে কউক কর্তৃক সকল সেবা জনগণের কাছে পৌছাতে আমরা ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা করছি। আমাদের স্বপ্নের কক্সবাজার রূপান্তরে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরীর সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা, সরকারী বেসরকারী উদ্যোগ গ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, ভারত থেকেও অধিক সংখ্যক বিদেশী পর্যটকদের কক্সবাজার শহরে আকৃষ্ট করতে পারবো। নতুন নতুন সুষম উন্নয়ন এবং পরিবেশ বান্ধব পরিকল্পনার বাস্তবায়নে আমরা সচেষ্ট থাকবো।

আমাদের পাহাড়, অবারিত সমুদ্রকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতই হবে রাজস্ব আয়ের অন্যতম হাতিয়ার। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কক্সবাজার পর্যটন শহরের অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম (শেখ জামাল স্টেডিয়াম) এখানে হয়েছে। রাস্তাঘাট, আবাসন, বিদ্যুৎ ও সমুদ্র সৈকতে অভিনব নতুনত্বের ছোঁয়া লাগিয়ে বদলাতে হবে প্রিয় কক্সবাজার। আমাদের স্বপ্ন কক্সবাজারে হতে পারে সিঙ্গাপুর সেন্টোছা আইল্যান্ড, মালয়েশিয়া লিগোল্যান্ড এমিউজম্যান্ট পার্ক (ল্যাংক্যায়) কিংবা ইংল্যান্ডের ডাইসেল পার্ক ইত্যাদির মতো অথবা এর থেকেও আধুনিক সুবিধা সম্বলিত এমিউজম্যান্ট পার্ক। তাছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে যেমন আওয়ার লেডি বীচ (ফ্রান্স), নাভাগিও বীচ (গ্রীস), ক্যালো ধেস মোরু বীচ (স্পেন), অলোদিনিস বীচ (তুর্কি), প্রায়া মারিনা বীচ (পূর্তুগাল) ইত্যাদি কোন একটির মত বিখ্যাত হবে আমার প্রিয় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, যা বিশ্ববাসীকে হাতছানি দিয়ে ডাকবে।